রংপুরের মিঠাপুকুরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে নাহিদ হাসান তখন কলেজের ছাত্র। হাতে কিছুই ছিল না—ছিল শুধু স্বপ্ন, পরিশ্রম আর সততার ওপর অটল বিশ্বাস। বন্ধুদের নিয়ে শুরু করেছিলেন “Nahid’s World” নামে একটি ছোট অনলাইন ফল বিক্রির উদ্যোগ।
কিন্তু শুরুটা যতটা স্বপ্নময় ছিল, বাস্তবতা ততটাই নির্মম। ব্যবসা শুরু করার কয়েকদিনের মধ্যেই এক প্রতারক “অর্ডার” দিয়ে ২৫০ কেজি আম নেন, কিন্তু টাকা আর ফেরত দেননি। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার টাকা—যা তিনি ধার করে জোগাড় করেছিলেন।
“আমি তখন মনে করেছিলাম সব শেষ। মনে হচ্ছিল জীবনটাই ব্যর্থ হয়ে গেল,” স্মৃতিচারণ করেন নাহিদ। “কিন্তু হাল ছাড়লে তো সত্যিকারের ব্যর্থ হতাম। তাই আবার শুরু করি, একদম শূন্য থেকে।”
প্রথম ব্যবসার ব্যর্থতার পরও নাহিদ থেমে থাকেননি। তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় মূলধন। তাই নতুন করে শুরু করেন মাছ বিক্রির ব্যবসা—‘নদীর তাজা মাছ, কোনো রাসায়নিক নয়’—এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
আজ তাঁর “Nahid’s World” ঢাকা আজিমপুরে অবস্থিত একটি পূর্ণাঙ্গ ফিশ ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান। প্রতি মাসে বিক্রি হয় এক কোটি টাকার বেশি মাছ। বর্তমানে এখানে কর্মরত ৩৫ জন তরুণ, যাদের বেশিরভাগই ছাত্র বা চাকরির সুযোগহীন যুবক।
নাহিদের ব্যবসা শুধু মাছ বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন হয়ে উঠেছে এক ধরনের অনুভবের প্রতীক। প্রতিটি পার্সেলে তিনি দেন ছোট্ট একটি কার্ড—যেখানে লেখা থাকে, “মা, তোমায় ভালোবাসি” বা “তোমার জন্য আজকের মাছ”। এই মানবিক সংযোগই তাঁর ব্র্যান্ডকে দিয়েছে অনন্য পরিচিতি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত অর্ডার করেন। তাঁর লক্ষ্য এখন গ্রামীণ এলাকাতেও একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা।
নাহিদ হাসানের স্বপ্ন ২০২৮ সালের মধ্যে এক হাজার তরুণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং নদীতে মাছের পোনা ছেড়ে টেকসই পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখা।
তিনি বলেন, “আমি চাই আমার মতো যারা একসময় হতাশ হয়েছে, তারা যেন জানে—ব্যর্থতা শেষ নয়, এটি কেবল শুরু।”
এক সময় যিনি ১৭ হাজার টাকার স্ক্যামে দিশেহারা হয়েছিলেন, তিনিই আজ কোটি টাকার সফল উদ্যোক্তা। তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে—সফলতার শুরু হয় হাল না ছাড়া এক ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত থেকেই।