নতুন ফরম্যাট: কী পরিবর্তন হলো?
১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপে ৩২টি দল খেলে আসছিল। এবার সেটি বেড়ে হলো ৪৮। এই পরিবর্তন মানে আরও বেশি দেশের স্বপ্নপূরণের সুযোগ, আরও বেশি ম্যাচ এবং আরও দীর্ঘ টুর্নামেন্ট।
৪৮টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি চার-দলীয় গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সব গ্রুপ মিলিয়ে আট সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দল — মোট ৩২টি দল নকআউট পর্বে উঠবে। এরপর শুরু হবে রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল।
মোট ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪। ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো দলকে খেলতে হবে ৮টি ম্যাচ (আগে ছিল ৭টি)। টুর্নামেন্টের মোট মেয়াদ ৩৯ দিন — আগের চেয়ে বেশি।
- মোট দল ৪৮
- গ্রুপ সংখ্যা ১২ (প্রতিটিতে ৪ দল)
- নকআউটে উত্তীর্ণ ৩২ দল
- মোট ম্যাচ ১০৪
- সময়কাল ১১ জুন — ১৯ জুলাই ২০২৬
- মোট পুরস্কারমূল্য ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- ভেন্যু শহর ১৬টি (৩টি দেশে)
- উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ১১ জুন
- ফাইনাল ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি, ১৯ জুলাই
তিন দেশে ১৬ শহর
এই বিশ্বকাপের আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা — তিনটি দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আয়োজন করবে সবচেয়ে বেশি — ৭৮টি ম্যাচ, যার মধ্যে রয়েছে সব নকআউট ম্যাচ এবং ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল। মেক্সিকো ও কানাডা প্রতিটি আয়োজন করবে ১৩টি করে ম্যাচ।
ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও অ্যাজটেকায় — ২০১০ সালের মতোই মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই আসরের স্মরণীয় উদ্বোধনী ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ফুটবল ভক্তদের কাছে এক বিশেষ আবেগের মুহূর্ত।
ব্র্যাকেট সিস্টেম: বড় দলগুলোর পথ
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা একটি নতুন 'ব্র্যাকেট সিস্টেম' চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় শীর্ষ চার র্যাংকিংয়ের দল — স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড — সেমিফাইনালের আগে পরস্পরের মুখোমুখি হবে না (যদি সবাই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থাকে)। এর মানে হলো, কোয়ার্টার ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা বনাম রোনালদোর পর্তুগালের সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়াও এখন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে।
রেকর্ড পুরস্কারমূল্য
এই বিশ্বকাপের মোট পুরস্কারমূল্য ধরা হয়েছে ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার — যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই পুরস্কারমূল্য ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার। ফাইনালে বিজয়ী দল যে পরিমাণ অর্থ পাবে, তাও হবে নজিরবিহীন।
কার দিকে তাকিয়ে থাকবে বিশ্ব?
লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো — দুই কিংবদন্তির এটিই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মেসির নেতৃত্বে কি খেতাব ধরে রাখতে পারবে? স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানি — প্রত্যেকেই শিরোপার দাবিদার।
আর নতুন প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকাপ হবে নিজেদের প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ। নরওয়ের হল্যান্ড, ইংল্যান্ডের বেলিংহাম, ফ্রান্সের এমবাপ্পে — এরা কি পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে যাবেন?
বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটি কোণে ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন ১১ জুনের জন্য — যেদিন উঠবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের পর্দা।