১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। সেবার বিশ্বমঞ্চে শেষবার উপস্থিত ছিল ইরাক। তারপর কেটে গেছে চল্লিশটি বছর — যুদ্ধ, অবরোধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ফুটবলের মাঠে বারবার হতাশার ইতিহাস। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল রাতে মেক্সিকোর মাটিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাক লিখল তাদের ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়।
ইরাকের বিশ্বকাপ ইতিহাস
ইরাক প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকোতেই। সেই আসরে তারা গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, প্যারাগুয়ে ও স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়। কিন্তু সেই উপস্থিতিটুকুই তাদের সোনালি স্মৃতি।
এরপর বারবার যোগ্যতা অর্জনের কাছাকাছি গেছে ইরাক, কিন্তু শেষ ধাপে এসে বিদায় নিতে হয়েছে। এবার আন্তর্মহাদেশীয় প্লে-অফে সুযোগ পেয়ে তারা সেটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে।
বলিভিয়াকে হারানোর রাত
মঙ্গলবার রাতে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্মহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে ইরাক আলি আল-হামাদি ও আইমান হুসেইনের গোলে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। এটি ছিল প্লে-অফ পর্বের শেষ ম্যাচ — এবং এই জয়ের মধ্য দিয়েই সম্পূর্ণ হয় বিশ্বকাপের ৪৮ দলের তালিকা।
ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় ইরাক। এরপর বলিভিয়া সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে আইমান হুসেইনের দুর্দান্ত গোলে ফের এগিয়ে যায় এশিয়ার দলটি এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখে। মাঠে ইরাকি সমর্থকদের উল্লাসে যেন ভূমিকম্প হয়েছিল।
"এই মুহূর্তটি শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো ইরাকি জাতির। ৪০ বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখেছি, আজ তা সত্যি হলো।" — ইরাক দলের অধিনায়ক
গ্রুপ 'আই'-এ ইরাকের চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপের মূলপর্বে ইরাক পড়েছে গ্রুপ 'আই'-তে। তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে — যাদের প্রত্যেকেই বিশ্বমানের শক্তিশালী দল। ফ্রান্স সম্প্রতি বিশ্বকাপ জিতেছে, সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দল এবং নরওয়ায় রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এরলিং হল্যান্ড।
গ্রুপ পর্বে ইরাকের প্রথম ম্যাচ হবে নরওয়ের বিপক্ষে — ১৬ জুন ফক্সবরোতে। এটি হবে এক অসাধারণ পরীক্ষা। তবে ৪০ বছরের অপেক্ষার পর যে দল বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে, তারা অবশ্যই লড়াই করবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু |
|---|---|---|
| গ্রুপ পর্ব ১ | নরওয়ে | ফক্সবরো, যুক্তরাষ্ট্র |
| গ্রুপ পর্ব ২ | সেনেগাল | নির্ধারিত হচ্ছে |
| গ্রুপ পর্ব ৩ | ফ্রান্স | নির্ধারিত হচ্ছে |
প্রেরণার উৎস: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন
ইরাকের এই যোগ্যতা অর্জনকে শুধু ফুটবলের প্রেক্ষাপটে দেখলে চলবে না। দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধ, অবরোধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এই দেশটির তরুণ প্রজন্ম ফুটবলকে ভালোবেসেছে, স্বপ্ন দেখেছে। আর আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের নেতৃত্বে ইরাক দল যেভাবে চাপের মুহূর্তে স্থিরতা বজায় রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই বিশ্বকাপে ইরাক হয়তো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারবে না — কিন্তু তাদের উপস্থিতি নিজেই এক জয়।