তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ নভেম্বর ২২৩ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা হয়েছে, যা দেশে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে। এর আগে অক্টোবরেও দাম বেড়েছিল ২৫২ টাকা। দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সরবরাহে ঘাটতি চলছে এবং সরকার-নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
২০২১ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিইআরসি প্রথমবারের মতো বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে; তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ঠিক হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় হয়েছে। এপ্রিল ২০২১ থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যে ৬৩ বারের তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে, কমেছে ২৬ বার, আর ৫ বার অপরিবর্তিত ছিল।
২০২৬ সালের মার্চে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আট মাসে তা বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকায় ঠেকেছে। চলতি বছর এলপিজি নিয়ে দুবার সংকট দেখা দিয়েছে—একবার জানুয়ারিতে, আরেকবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। দুবারই ক্রেতারা দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাননি; যখন পেয়েছেন, সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
জানুয়ারির সংকটের কারণ ছিল ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারা। বিদেশ থেকে এলপিজি কিনতে আমদানিকারককে ব্যাংকে এলসি খুলতে হয়; তা না হলে জাহাজ আসে না। ২০২৫ সালের শেষ দিকে কয়েকটি বড় আমদানিকারক এই জায়গায় আটকে যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এলপিজি আমদানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৪৪ শতাংশ কম ছিল এবং পুরো ২০২৫ সালে আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। ওই সময় জানুয়ারির মাঝামাঝি সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সংকটের কারণ আগেরটির মতো নয়—এ নিয়ে বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবের কথা এসেছে।