মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করতেই হবে, গুম-খুন ঠেকাতে সংবিধানে সুরক্ষার উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, তবে এ ব্যবস্থা ‘প্রবর্তন করতেই হবে, এর কোনো গত্যন্তর নেই’ বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির নবম বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে সমঝোতা না হলে পরবর্তী বিকল্প কী হবে, সে বিষয়েও প্রস্তাব আছে। একটি প্রস্তাব ছিল র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোট। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে কমিটির মত ছিল। আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো প্রস্তাব এলে সেটিও বিবেচনা করা হবে। কী প্রক্রিয়ায় সরকার গঠন হবে, কাঠামো কী হবে, কত দিনের মধ্যে গঠিত হবে এবং কোন বাছাই কমিটির মাধ্যমে গঠন করলে বিতর্কের অবকাশ থাকবে না, এসব বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তারা রাস্তায় আন্দোলন করে যেসব দাবি জানাচ্ছে, সেগুলো কমিটিতে এলে তাদের বক্তব্য শোনা যেত; কিন্তু বিরোধী দল রাস্তার আন্দোলনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৈঠকে আমন্ত্রিত হলেও জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অংশ নেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শোনা হয়। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি নির্ধারণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদেরা স্বীকৃতি পেয়েছেন, কিন্তু গুমের শিকার ব্যক্তিরা এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যেসব বিষয় সংবিধানে থাকা দরকার, তা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এবং অন্যগুলো আইন ও বিধির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গুমের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীই তা তদন্ত করবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তদন্তের প্রক্রিয়া নির্ধারিত আছে। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে তদন্ত করবে না; অন্য বাহিনী করবে। সদস্যদের শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে বিচারের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় আদালতের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণের বিধানও ওই আইনে আছে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের আট মাসের মেয়াদে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ক্রসফায়ার, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা গুমের ঘটনা ঘটেনি। একটি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও আহ্বান জানানো হয়েছে; তবে অভিযোগের পক্ষে উল্লেখযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের দিনই এ নিয়ে কথা বলেছেন এবং ওই মন্তব্যের পর ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।