বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লায় ইলিশবোঝাই পিকআপ লুট: ১৯ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

মুরাদনগরে ইলিশবোঝাই পিকআপ ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় ইদ্রিস মিয়া নামে একজনকে রাজধানীর শনির আখড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিশবোঝাই পিকআপ ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় ইদ্রিস মিয়া (২৭) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শনির আখড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার বিকেলে এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, ইদ্রিস মিয়া আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে মুরাদনগরের নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর থেকে রামচন্দ্রপুরগামী সড়কে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। লক্ষ্মীপুর সদরের মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের আড়ত থেকে ইলিশ কিনে পিকআপে করে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গাড়িচালক ও আরেক সহযোগী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি সাদা পিকআপ তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে। ১০–১২ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের মারধর করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ডাকাতেরা প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশবোঝাই পিকআপ এবং বেল্লালের কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে উদ্ধার করেন। ঘটনায় বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ডাকাতির অভিযোগে মামলা করেন।

মেজর সাদমান ইবনে আলম আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে ইদ্রিস মিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইদ্রিসের অবস্থান ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার রাতে এসআরবি-১১ কুমিল্লা ও এসআরবি-১০ যাত্রাবাড়ীর একটি যৌথ দল প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শনির আখড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এসআরবি সূত্র আরও জানায়, ডাকাতির পর গ্রেপ্তার এড়াতে ইদ্রিস আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ডাকাতি ছাড়া তাঁর আয়ের অন্য কোনো নির্ধারিত উৎস ছিল না। ইদ্রিস এখনো অভিযুক্ত; মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে নির্ধারিত হবে।