বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি এডিসের লার্ভার ঘনত্বে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ; জরিপে প্রতি সাত বাড়ির একটিতে লার্ভা

ডিএসসিসির বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপে ২৯টি ওয়ার্ড অধিক এবং আরও ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে; ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে লার্ভা ও পিউপা মিলেছে।

এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের বিবেচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। আরও ২৮টি ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে। বুধবার নগর ভবন মিলনায়তনে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিন এই জরিপ চালানো হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে বাড়ি নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়। করপোরেশনের ভাষ্য, ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা বাছাই করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জরিপটি করেছেন।

জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে এডিসের লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে—অর্থাৎ প্রতি সাতটি বাড়ির প্রায় একটিতে এর উপস্থিতি মিলেছে। লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী ওয়ার্ডগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অধিক ও মাঝারি ঝুঁকির ৫৭টি ওয়ার্ড সিটির মোট ওয়ার্ডের ৭৬ শতাংশ; বাকি ১৮টি ‘সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ’। অধিক ঝুঁকির তালিকায় আছে ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য ওয়ার্ডভিত্তিক সূচকের মান বা কোন মানদণ্ডে ঝুঁকির শ্রেণি ঠিক হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

মশার প্রজননস্থল হিসেবে বাসাবাড়ির প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, মগ ও ফুলের টব এবং ভবনের বেজমেন্টে জমা পানির কথা বলা হয়েছে। জরিপের হিসাবে প্লাস্টিকের বালতিতে লার্ভার উপস্থিতি ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টের জমা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। করপোরেশনের মতে, বাড়ির আঙিনা ও পাত্রে জমে থাকা পানির বিষয়ে সচেতন হলে প্রজননস্থলের বড় অংশ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হলো, অপ্রয়োজনীয় পাত্র সরিয়ে ফেলা, প্রয়োজনীয় পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করা, কারণ এডিসের ডিম শুষ্ক অবস্থায়ও কয়েক মাস টিকে থাকতে পারে।