দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের পাঁচটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৭কক(৩) ধারা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী কোনো খেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ নিতে পারে না।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সুবিধা পাবে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস। সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিতব্য সিন্ডিকেটেড ঋণ থেকে এই অর্থ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রুপটির ঋণ এখনই খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ওই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ছিলেন। গ্রুপটির কাছে ৪৩টি ব্যাংকের পাওনা ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।
প্রজ্ঞাপনে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ঋণসুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা চাইতে পারবে না। ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে এমন সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে, যা আগে অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে বন্ধক নেই। ঋণের টাকায় আমদানি করা কাঁচামাল ঋণদাতা ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে কিনে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে, আর বিক্রয়লব্ধ অর্থ নির্দিষ্ট হিসাবে জমা হবে।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে সিটি গ্রুপের এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেবে আটটি ব্যাংক। সিটি ব্যাংক লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে থাকবে। শিল্পগোষ্ঠীটি যাতে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল।